ভালো খেজুর এর নাম ও খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

আপনারা কি ভালো খেজুর এর নাম ও খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। খেজুর খাওয়ার উপকারিতা অনেক। খেজুর খেতে ভারি সুস্বাদু হয়ে থাকে।

খেজুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের লেখা এই পোষ্টটি সম্পূর্ণ পড়তে থাকুন। আশা করি আপনি পুরো পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হতে পারবেন।

ভূমিকাঃ

খেজুর এক ধরনের শাখাবিহীন বৃক্ষ। খেজুরের বৈজ্ঞানিক নাম বলতে আমরা Phoenix dactylifer জেনে থাকি। এই গাছ থেকে যে ফল পাওয়া যায় তাকে খেজুর বলে। খেজুর খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হয়ে থাকে। খেজুর গাছ মরু এলাকায় হয়ে থাকে। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান। খেজুর শক্তির একটি ভালো উৎস হিসবে আমরা চিনে থাকি। 

খেজুর আমাদের কে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে থাকে। খেজুর ছোট বড় আকারে হয়ে থাকে। খেজুরের অনেক জাত রয়েছে। খেজুর পাকা অবস্থায় খয়েরি রঙের হয়ে থাকে। মুসলমান রা রোজার মাসে ইফতার এর সময় খেজুর দিয়ে ইফতার করে থাকে।

ভালো খেজুরের নামঃ

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভালো খেজুর পাওয়া যায়, যেগুলোর মধ্যে কিছু জনপ্রিয় নাম হলো-
খেজুরের নাম খেজুর সম্পর্কে তথ্য
মেডজুল (Medjool) এটি দেখতে অনেক বড় এবং নরম হয়। এটি মিশরে বেশি হয়।
আজওয়া (Ajwa) সৌদি আরবের এই খেজুর অনেক জনপ্রিয় হয়ে থাকে।
মরিয়ম (Mariam) এই খেজুর জর্ডান ও ইরান এ পাওয়া যায়।
আনবারা (Anbara) এটি দেখতে অনেক বড় হয়ে থাকে।
সাগি বা সুগায়ি (Sagi or Sugai) এই খেজুর সাধারণত নরম এবং মিষ্টি।
সাফাওয়ি (Safawi) এটি কালো রঙের এবং মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে।
খুরমা (Khurma) এটি একটি সুস্বাদু খেজুর যা ভিজিয়ে রেখে খেতে হয়।
খালাস (Khalas) এটি আরব দেশগুলোতে খুব প্রচলিত একটি খেজুর।
এই খেজুরগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায়। খেজুর কেনার সময় তাজা এবং ভালো মানের খেজুর নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

খেজুর খাওয়ার নিয়মঃ

খেজুর খাওয়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। কিন্তু এটি খাওয়ার সময় আমাদেরকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এখানে খেজুর খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
  • প্রতিদিনের খাবারঃ প্রতিদিন অন্তত দুইটি খেজুর খাওয়া উচিত। এর ফলে অনেক অসুখ থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারবো।
  • ভিজিয়ে খাওয়াঃ যদি খোরমা খেজুর খাওয়া হয় তাহলে ভিজিয়ে রেখে তারপর খেতে হবে।
  • মিশ্রণ করে খাওয়াঃ খেজুর আবার অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। যেমন মাখনের সাথে আমরা মিশিয়ে খেতে পারবো।
  • দুধের সাথে খাওয়াঃ আমরা যদি দুধের সাথে খেজুর খাই, তাহলে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাবো। এটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি।
  • সকালে খালি পেটেঃ প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়া যায়। এর ফলে আমাদের অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • পরিমিত পরিমাণে খাওয়াঃ প্রতিদিন ৪/৫ টি করে খেজুর খাবেন অথবা ১০০ গ্রাম সমপরিমাণ খেজুর খেতে পারেন। এর ফলে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা পাওয়া যাবে।
এছাড়াও, খেজুর বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট ও মিষ্টিজাতীয় খাবারে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়1। খেজুরের পেস্ট বানিয়ে তা বিভিন্ন খাবারে মিশিয়ে দিলে সেই খাবারের স্বাদ বাড়ে এবং পুষ্টি মূল্যও বেশি হয়। খেজুর খাওয়ার উপকারিতা অনেক রয়েছে তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেজুর খেলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

খেজুর খাওয়ার উপকারিতাঃ

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হলো-
  • শক্তি বৃদ্ধিঃ প্রতিদিন খেজুর খাওয়া উচিৎ। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে শক্তি থাকে, যা আমাদের শরীরের দূর্বলতা হ্রাস করে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • খেজুরের পুষ্টিগুণঃ খেজুরে আছে এমিনো অ্যাসিড, শর্করা, ভিটামিন, মিনারেল, গ্লুকোজ, সল্ট, ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনলস, আইরন, ফলেট, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম যা শরীরের সুস্থ্যতার জন্য অপরিহার্য।
  • রোগ প্রতিরোধঃ খেজুরে থাকা ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, খনিজ এবং পটাশিয়াম শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম এর ক্ষমতা বাড়িয়ে থাকে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণঃ খেজুরে থাকা ফাইবার পাকস্থলির হজমে সহায়তা করে থাকে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়ে থাকে।
  • হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণঃ খেজুর হৃদস্পন্দন এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে ভালো ভুমিকা পালন করে থাকে।
  • চোখের স্বাস্থ্যঃ নিয়মিত খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে খেজুর আমাদের চোখের রেটিনা সুস্থ রাখে ফলে আমাদের চোখ ভালো থাকে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণঃ খেজুর আমাদের শরীর এর ওজন নিয়ন্ত্রনে ভুমিকা রাখে। যারা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাদের জন্য খেজুর একটি ভালো উদাহরণ।
  • রক্তশূণ্যতা দূরীকরনঃ খেজুর আমাদের শরীরের রক্তশূণ্যতা দূর করে থাকে।
  • যকৃত সুরক্ষাঃ নিয়মিত খেজুর খেলে আমাদের শরীরের যকৃতের রোগ কম হয় অর্থাৎ আসংখা কম থাকে।
  • ত্বকের স্বাস্থ্যঃ খেজুর আমাদের ত্বকের শুষ্কতা রোধ করে এবং বলিরেখা প্রতিরোধ করে থাকে। এর ফলে আমাদের ত্বক ভালো থাকে।
এই উপকারিতাগুলো ছাড়াও, খেজুর আমাদের শরীরের জন্য আরও অনেক ভাবে উপকারী। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেজুর খেলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত খেজুর খেলে কি হয়ঃ

খেজুর খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমন আবার অতিরিক্ত খেজুর খেলে আমাদের নানারকম সমস্যা হতে পারে। আমাদেরকে অবশ্যই অতিরিক্ত খেজুর খাওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে।
  • ওজন বৃদ্ধিঃ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে, তাই বেশি পরিমাণে খেলে এটি আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।
  • বদ হজমঃ অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার ফলে পেটের পীড়া এবং বদ হজমের মত সমস্যা হতে পারে। তাই খেজুর খাওয়ার সময় অবশ্যই বুঝে খেতে হবে।
  • রক্তে সুগারের মাত্রাঃ খেজুর লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সম্পন্ন হলেও, অতিরিক্ত খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • ডায়াবেটিসের ঝুঁকিঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার ফলে নানারকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের খেজুর না খাওয়াই ভালো।
  • ডায়রিয়াঃ অতিরিক্ত পরিমানের খেজুর খাওয়ার ফলে আমাদের ডায়াবেটিস হতে পারে। তাই খেজুর খাওয়ার সময় কখনো অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না।
এই কারণে, খেজুর খাওয়ার সময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

শুকনো খেজুর খাওয়ার নিয়মঃ

  • প্রতিদিনের খাবারঃ প্রতিদিন অন্তত দুইটি শুকনো খেজুর খাওয়া আমাদের খাওয়া উচিত। কারণ এর ফলে আমাদের শরীরের আয়রনের চাহিদার প্রায় ১১ ভাগ পূরণ হবে।
  • ভিজিয়ে খাওয়াঃ যদি কারোর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে তাহলে রাতের বেলা পানিতে শুকনো খেজুর ভিজিয়ে রাখুন এবং পরেরদিন সকালে খেজুর ভেজানো পানি পান করুন।
  • মিশ্রণ করে খাওয়াঃ আপনি শুকনো খেজুর বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন।
  • হালুয়া তৈরিঃ আপনি শুকনা খেজুর দিয়ে হালুয়া করে বা বিভিন্ন হালুয়ার মধ্যে খেতে পারবেন।
  • চিনির বিকল্পঃ ডায়াবেটিস থাকলে প্রচলিত খেজুরের বদলে শুকনো খেজুরকে ডায়েটে খেতে পারবেন।
এই নিয়মগুলো মেনে চললে শুকনো খেজুর খাওয়ার উপকারিতা পাওয়া যাবে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেজুর খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

খেজুর খেলে কি বীর্য ঘন হয়?

খেজুর খাওয়ার উপকারিতা থাকলেও, খেজুর খেলে বীর্য ঘন হয় কিনা? এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক কোন প্রমাণ নেই। তবে, খেজুরে থাকা ভিটামিন বি, খনিজ লোহা এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বীর্য উৎপাদনকারী কোষগুলির কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে এবং ফাইবার পুরুষের যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
এই উপাদানগুলি পুরুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে এবং পরোক্ষভাবে বীর্যের ঘনত্ব বাড়ার পক্ষে কাজ করে। যদি আপনি এই বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পেতে চান, তাহলে একজন ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করুন।

লেখকের পরামর্শঃ

খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে উপকারিতা থাকলেও খেজুর অতিরিক্ত খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের যেহুতু নানারকম সমস্যা হতে পারে সেহুতু আমাদের উচিৎ খেজুর পরিমাণমত খাওয়া। খেজুর যদি আমরা পরিমাণমত খাই তাহলে খেজুর হতে শুধু উপকৃত হতে পারবো। আরাবি দেশের লোকেরা খেজুর বেশি পছন্দ করে থাকে।

আমাদের পোষ্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে পাশে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা সদা আপাদেরকে সঠিক তথ্য প্রদান করে থাকবো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url